AR News
বিজ্ঞান ও পরিবেশ / স্বাস্থ্য · ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাইক্রোপ্লাস্টিক: প্রতিদিন আমাদের শরীরে ঢুকছে যে অদৃশ্য দূষণ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: প্রতিদিন আমাদের শরীরে ঢুকছে যে অদৃশ্য দূষণ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য দূষণ যা প্রতিদিন আমাদের শরীরে ঢুকছে

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের প্লাস্টিক কণা। এগুলো তৈরি হয় বড় প্লাস্টিক পণ্য (যেমন বোতল, ব্যাগ, টায়ার, কাপড়ের ফাইবার) সূর্যের আলো, পানি ও ঘর্ষণের প্রভাবে ভেঙে ভেঙে ছোট হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে, আবার কিছু পণ্যে (যেমন কসমেটিকস, টুথপেস্ট) সরাসরি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা হিসেবেও যোগ করা হয়। এই কণাগুলো এতটাই ছোট ও স্থায়ী যে বাতাস, পানি, মাটি, খাদ্য এমনকি মানুষের রক্ত ও অঙ্গেও এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

গবেষণা কারা প্রকাশ করেছে এবং কীভাবে

দুই দশকের গবেষণার সারসংক্ষেপ

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিজ্ঞান সাময়িকী Science-এ যুক্তরাজ্যের প্লাইমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রিচার্ড সি. থম্পসনের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী একটি পর্যালোচনা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। এই গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষের শরীরে এর সংস্পর্শ ঘটছে, জীববৈজ্ঞানিক সংগঠনের সব স্তরে এর প্রভাব পড়ছে, এবং মানুষের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাবের নতুন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। গবেষকরা আশা করছেন আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে মানব স্বাস্থ্যে বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।

AURORA প্রকল্প (ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থায়িত)

ইউরোপীয় ইউনিয়নের Horizon 2020 কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত AURORA প্রকল্প শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের ওপর মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছে। ২০২৬ সালের মে মাসে তারা জানায়, প্লাস্টিকের প্যাকেট (পাউচ) শিশুখাদ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও রাসায়নিক দূষণের একটি উৎস হতে পারে।

সাম্প্রতিক পর্যালোচনা গবেষণা

২০২৬ সালে Microplastics জার্নালে জানা রাম্মাল ও তার সহযোগীদের একটি পর্যালোচনা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উৎস, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং মানুষের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়, যা ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাম্প্রতিক গবেষণাপত্রের ভিত্তিতে তৈরি।

পদ্ধতিগত সতর্কতাও উঠে এসেছে

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মানব অঙ্গে প্লাস্টিক জমার পরিমাণ নিয়ে কিছু বিজ্ঞানী পরিমাপ পদ্ধতির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গবেষণাগারে ব্যবহৃত গ্লাভস থেকেও কণা নির্গত হয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক গণনায় ভুল তথ্য যোগ হতে পারে — যা প্রমাণ করে এই ক্ষেত্রের গবেষণা এখনো বিকাশমান এবং পদ্ধতিগত উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে শরীরে প্রবেশ করে

খাদ্য ও পানীয়: বোতলজাত পানি, সামুদ্রিক মাছ, লবণ, চা-ব্যাগ থেকে

শ্বাস-প্রশ্বাস: বাতাসে ভাসমান কণা, গাড়ির টায়ারের ঘর্ষণজনিত ধুলা থেকে

ত্বকের মাধ্যমে: কসমেটিকস ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্য থেকে

প্যাকেজিং: প্লাস্টিক পাউচ বা কনটেইনারে সংরক্ষিত খাবার থেকে

কেন এটি উদ্বেগের বিষয়

গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ফুসফুস ও কোলনের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, এবং এটি রক্ত-মস্তিষ্ক বাধাও (blood-brain barrier) অতিক্রম করতে সক্ষম বলে প্রমাণ মিলেছে। তবে বিজ্ঞানীরা একমত যে এই সম্পর্কগুলো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হতে আরও দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা প্রয়োজন।

আরও খবর পড়ুন