যুক্তরাষ্ট্র বনাম চীন: ২০২৬ সালের AI দৌড়ে আসলে কে এগিয়ে?
২০২৬ সালের একাধিক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-চীন AI প্রতিযোগিতায় কোনো একক পক্ষ সব দিক থেকে এগিয়ে নেই। উভয় দেশের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের AI Index 2026 অনুযায়ী সামগ্রিক পারফরম্যান্স ব্যবধান মাত্র ২.৭ শতাংশ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা দেখায় প্রতিযোগিতা ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।
কোন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে
উন্নত AI মডেল: OpenAI, Google DeepMind, Anthropic, Meta ও Microsoft-এর মতো প্রতিষ্ঠান এখনো বিশ্বের সবচেয়ে সক্ষম বড় ভাষা মডেল তৈরি করছে। Epoch AI-এর তথ্যমতে, চীনা মডেলগুলো গড়ে প্রায় সাত মাস পিছিয়ে থাকে।
চিপ ও কম্পিউট অবকাঠামো: Nasdaq-এর গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী বৈশ্বিক GPU ক্লাস্টার ক্ষমতার প্রায় ৭৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, চীনের হাতে মাত্র ১৫ শতাংশের মতো।
বেসরকারি বিনিয়োগ: স্ট্যানফোর্ড AI Index 2026 অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি AI বিনিয়োগ অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ঢের বেশি, যা স্টার্টআপ ও গবেষণাগারে ঢালা হচ্ছে।
কোন ক্ষেত্রে চীন এগিয়ে
গবেষণাপত্র ও পেটেন্ট: চীন বিশ্বে সবচেয়ে বেশি AI গবেষণাপত্র প্রকাশ করছে এবং পেটেন্ট ফাইলিংয়েও শীর্ষে।
ওপেন-সোর্স মডেলের বিস্তার: DeepSeek ও Qwen-এর মতো মডেল বিশ্বের বহু ডেভেলপারের কাছে ডিফল্ট পছন্দে পরিণত হয়েছে। Hugging Face-এ চীনা মডেল ডাউনলোডের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
খরচ-সাশ্রয়ী মডেল: ২০২৬ সালের জুলাইয়ে উন্মুক্ত হওয়া DeepSeek V4 প্রায় এক ট্রিলিয়ন প্যারামিটারের একটি দক্ষতা-কেন্দ্রিক মডেল, যা মার্কিন ফ্রন্টিয়ার মডেলের কাছাকাছি স্কোর দিলেও খরচ প্রায় ৫০ গুণ কম।
রাষ্ট্রীয় পুঁজি: চীন সরকার AI খাতে বিপুল রাষ্ট্রীয় তহবিল ঢালছে, যেমন ২০২৫ সালে একটি রাজ্য-পরিচালিত ভেঞ্চার ফান্ডে প্রায় ১৩৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ।