AR News
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ · ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৌদি ইউরেনিয়াম কতটা মূল্যবান ?

সৌদি ইউরেনিয়াম কতটা মূল্যবান ?

সৌদি আরব সম্প্রতি একটি বড় খনিজ সম্পদ আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সালমান এই ঘোষণা দেন।

কী পাওয়া গেছে?

মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইদ (Jabal Sayid) প্রকল্পে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রায় ১১০ মিলিয়ন টন আকরিক (ore) খুঁজে পাওয়া গেছে, যাতে উচ্চ মাত্রার রেয়ার আর্থ মিনারেল এবং সম্ভাবনাময় মাত্রার ইউরেনিয়াম রয়েছে। আরব নিউজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর মধ্যে ইউরেনিয়ামের পরিমাণ আনুমানিক ৩১ হাজার টন।

তবে মনে রাখা জরুরি — ১১০ মিলিয়ন টন আকরিক মানেই ১১০ মিলিয়ন টন ইউরেনিয়াম নয়। প্রকৃতপক্ষে কতটা ইউরেনিয়াম তোলা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে আকরিকের গুণগত মান, ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং তোলার খরচের ওপর।

মূল্য কত?

সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রেয়ার আর্থ মিনারেল আবিষ্কারের মোট মূল্য ২০২৫ সালের নভেম্বর নাগাদ পৌঁছেছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৯০ শতাংশ বেশি। তবে এই নতুন ইউরেনিয়াম-নির্দিষ্ট আবিষ্কারের আলাদা ডলার মূল্য এখনো সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশিত হয়নি — এটি এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে আছে।

গবেষণা প্রকাশ করেছে কারা?

ঘোষণাটি এসেছে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সালমানের কাছ থেকে, IAEA সম্মেলনে।

একই সপ্তাহে OECD-এর নিউক্লিয়ার এনার্জি এজেন্সি (NEA) এবং IAEA যৌথভাবে প্রকাশ করেছে "ইউরেনিয়াম ২০২৬: রিসোর্সেস, প্রোডাকশন অ্যান্ড ডিমান্ড" প্রতিবেদন, যা "রেড বুক" নামে পরিচিত — এটি ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রকাশিত এই সিরিজের ৩১তম সংস্করণ।

সৌদি জিওলজিক্যাল সার্ভে-ও নিজস্ব অনুসন্ধান চালিয়ে দুটি উন্নত পর্যায়ের এলাকায় মোট ৬৪৪ মিলিয়ন টন সম্পদের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।

প্রেক্ষাপট

২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে। সৌদি খনি কোম্পানি মাআদেন (Ma'aden) যুক্তরাষ্ট্রের এমপি ম্যাটেরিয়ালস-এর সঙ্গে রেয়ার আর্থ ও ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে অংশীদারিত্বে কাজ করছে। পাশাপাশি ফ্রান্সের ওরানো (Orano) কোম্পানির সঙ্গেও সার-উৎপাদনের সময় ফসফরিক অ্যাসিড থেকে ইউরেনিয়াম আহরণের বিষয়ে সমঝোতা রয়েছে।

এই আবিষ্কার সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে দেশটির খনি শিল্প বিস্তৃত করা এবং নিজস্ব পারমাণবিক জ্বালানি চক্র গড়ে তোলার লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

আরও খবর পড়ুন