ড. লরেন্স ব্রাউন: নাস্তিকতা থেকে ইসলাম—কীভাবে বদলে গেল তাঁর বিশ্বাস?
একসময় ধর্ম ও ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস ছিল না ড. লরেন্স বি. ব্রাউনের।
তিনি ছিলেন একজন মার্কিন চিকিৎসক ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ। তাঁর শিক্ষাজীবনে Cornell University, Brown University Medical School এবং George Washington University Hospital-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। তিনি পরে মার্কিন বিমানবাহিনীতেও চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু ১৯৯০ সালে তাঁর জীবনে ঘটে একটি ঘটনা, যা তাঁর নিজের ভাষায় তাঁর চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন আনে।
তাঁর দ্বিতীয় কন্যা জন্মের পর গুরুতর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত হন। শিশুটির শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাচ্ছিল না। একজন চিকিৎসক হিসেবে ব্রাউন পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারছিলেন।
তিনি হাসপাতালের প্রার্থনা কক্ষে গিয়ে প্রথমবারের মতো আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করেন।
তাঁর নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, তখনও তিনি পুরোপুরি ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন না। বরং তিনি সংশয় নিয়েই প্রার্থনা করেছিলেন—যদি ঈশ্বর থাকেন এবং তাঁর মেয়েকে সুস্থ করেন, তাহলে তিনি সত্য ধর্মের সন্ধান করবেন।
এরপর তাঁর মেয়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয় এবং অস্ত্রোপচার ছাড়াই সে সুস্থ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এর একটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্রাউন ঘটনাটিকে নিজের ধর্মীয় জীবনের মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখেন।
এরপর তিনি বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।
তিনি ইহুদি ধর্ম ও খ্রিস্টধর্মের বিভিন্ন ধারার বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। পরে কোরআন এবং মার্টিন লিংসের লেখা মহানবী মুহাম্মদ, সা.-এর জীবনী পড়েন।
ব্রাউনের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, কোরআনের একত্ববাদের শিক্ষা এবং নবুয়তের ধারাবাহিকতা নিয়ে তাঁর অধ্যয়ন তাঁকে ইসলামের প্রতি বিশ্বাসী করে তোলে। এরপর তিনি ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ আছে।
পরবর্তীতে ধর্ম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে তিনি একাধিক বই লেখেন। এর মধ্যে রয়েছে The First & Final Commandment, God'ed?, MisGod'ed এবং Bearing True Witness। তাঁর লেখাগুলোতে ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলামি ধর্মীয় ঐতিহ্য নিয়ে তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ—তাঁর মেয়ের অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠাকে তিনি ধর্মীয় অলৌকিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার বর্ণনা; এটিকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত অলৌকিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার মতো স্বাধীন বৈজ্ঞানিক গবেষণা এখানে পাওয়া যায়নি।
গবেষণা ও তথ্যের উৎস:
এই লেখার মূল তথ্য নেওয়া হয়েছে ড. লরেন্স বি. ব্রাউনের নিজের লেখা conversion story এবং তাঁর জীবনীসংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য থেকে। তাঁর নাস্তিকতা, মেয়ের অসুস্থতা, ধর্ম নিয়ে অধ্যয়ন এবং ইসলাম গ্রহণের বিবরণ তাঁর নিজের লেখাতেই রয়েছে।
অর্থাৎ, এটি কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের ফল নয়; বরং একজন চিকিৎসকের নিজের জীবনের ধর্মীয় পরিবর্তনের আত্মজীবনীমূলক বর্ণনা।
শেষ কথা:
ড. লরেন্স ব্রাউনের গল্প মূলত একজন মানুষের বিশ্বাস, সংশয়, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং সত্যের অনুসন্ধানের গল্প—যেখানে তাঁর নিজের বর্ণনা অনুযায়ী নাস্তিকতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্ম অধ্যয়ন শেষে তিনি ইসলামে বিশ্বাসী হন।