বিপদে মানুষকে সাহায্য করে কুকুর, কিন্তু বিড়াল কেন করে না?
বিপদে মানুষকে সাহায্য করে কুকুর, কিন্তু বিড়াল কেন করে না?
বিড়ালকে নিয়ে প্রচলিত একটি ধারণা হলো—তারা বেশ স্বাধীনচেতা এবং নিজের প্রয়োজন ছাড়া অন্যের বিষয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না। ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা এই ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
হাঙ্গেরির Eötvös Loránd University-এর গবেষকেরা ১৬ থেকে ২৪ মাস বয়সী মানব শিশু, পোষা কুকুর এবং পোষা বিড়ালের আচরণ তুলনা করেন। গবেষণায় ছিল ১৯ শিশু, ৩৮টি কুকুর এবং ২২টি বিড়াল। প্রাণীগুলো ছিল প্রশিক্ষণহীন পোষা প্রাণী।
পরীক্ষায় শিশু বা প্রাণীর পরিচিত একজন ব্যক্তি একটি বস্তু লুকিয়ে রাখতেন। এরপর সেই ব্যক্তি বস্তুটি খুঁজতে শুরু করতেন, কিন্তু সরাসরি কারও কাছে সাহায্য চাইতেন না। গবেষকেরা দেখতে চেয়েছিলেন—কে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই মানুষটিকে সাহায্য করার চেষ্টা করে।
ফলাফল ছিল বেশ আকর্ষণীয়।
শিশু ও কুকুরের আচরণে এমন কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যেগুলোকে গবেষকেরা সম্ভাব্য prosocial বা সাহায্যকারী আচরণ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তারা লুকানো বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করা, কাছে যাওয়া বা সেটি এনে দেওয়ার মতো আচরণ করেছে।
অন্যদিকে বিড়ালরা মানুষের দিকে মনোযোগ দিলেও সাহায্য করার মতো আচরণ অনেক কম দেখিয়েছে। গবেষণায় বিশেষভাবে দেখা যায়, বিড়ালদের ক্ষেত্রে বস্তুটি নিয়ে আগ্রহ বেশি দেখা গেলেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রবণতা ছিল অনেক কম।
কিন্তু এরপর আসে সবচেয়ে মজার অংশ।
গবেষকেরা যখন সাধারণ বস্তুর পরিবর্তে প্রাণীটির প্রিয় খাবার বা খেলনা লুকিয়ে রাখেন, তখন তিন প্রজাতির মধ্যে আচরণগত পার্থক্য আর দেখা যায়নি। অর্থাৎ, নিজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় জড়িত থাকলে বিড়ালও সমস্যাটির প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে “বিড়াল স্বার্থপর”—এমন বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত গবেষণাটি দিয়েছে।
গবেষকেরা বরং মনে করেন, কুকুরের মানুষের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণের পেছনে তাদের বিবর্তনীয় ইতিহাস ও দীর্ঘদিনের domestication বা গৃহপালনের প্রভাব থাকতে পারে। কুকুরের পূর্বপুরুষদের সামাজিক ও সহযোগিতামূলক আচরণ এবং মানুষের সঙ্গে বিশেষ ধরনের সম্পর্ক তাদের মানুষের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার প্রবণতা তৈরি করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে বিড়ালের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ও সামাজিক আচরণ কুকুরের মতো নয়। তাই একই পরিস্থিতিতে দুই প্রাণীর প্রতিক্রিয়াও একই হবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই গবেষণা থেকে বলা যায় না যে কোনো বিড়াল কখনো মানুষকে সাহায্য করবে না। গবেষণাটি নির্দিষ্ট পরীক্ষামূলক পরিস্থিতিতে প্রাণীদের স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ তুলনা করেছে।
তাই আপনার বিড়াল যদি আপনার বিপদের সময় পাশে না আসে, খুব বেশি অভিমান করার দরকার নেই। 😄
হয়তো তার কাছে তখনও আপনার সমস্যার চেয়ে তার প্রিয় খেলনাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ!