হেলিকপ্টার থেকে ঘোড়ার পিঠে—পুতিনের যেসব কর্মকাণ্ড চমকে দিয়েছে বিশ্বকে ?
একজন দেশের প্রেসিডেন্টকে সাধারণত দেখা যায় বৈঠকের টেবিলে, কূটনৈতিক সম্মেলনে কিংবা সরকারি অনুষ্ঠানে। কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে একেবারেই ভিন্ন ভূমিকায়। কখনো ঘোড়ার পিঠে, কখনো বরফের ওপর স্কি করতে, আবার কখনো মার্শাল আর্টের মঞ্চে।
ভ্লাদিমির পুতিনের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডের তালিকায় খেলাধুলার উপস্থিতি বেশ চোখে পড়ার মতো।
ছোটবেলা থেকেই মার্শাল আর্টের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। পুতিনের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি প্রথমে সাম্বো চর্চা শুরু করেন। পরে জুডোতেও প্রশিক্ষণ নেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দুই খেলাতেই তিনি সোভিয়েত আমলে মাস্টার অব স্পোর্টসের খেতাব অর্জন করেন।
তবে শুধু জুডো বা সাম্বোতেই থেমে থাকেননি তিনি।
বিভিন্ন সময়ে তাঁকে ঘোড়ায় চড়তে দেখা গেছে। রাশিয়ার বিস্তীর্ণ ও দুর্গম অঞ্চলে সফরের সময় ঘোড়ার পিঠে তাঁর ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে।
শীতপ্রধান রাশিয়ায় স্কিইংয়েও তাঁকে দেখা গেছে। আবার সাঁতার ও অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রম নিয়েও তাঁর প্রকাশ্য অংশগ্রহণের নজির রয়েছে।
পুতিন নিজেও শারীরিক অনুশীলনের গুরুত্বের কথা বলেছেন। ২০২৪ সালের এক আলোচনায় তিনি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন এবং নিজের শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার বিষয়েও কথা বলেন।
আর এখানেই শেষ নয়।
মোটরসাইকেল, মাছ ধরা, প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো—এ ধরনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তাঁকে বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুতিনকে ঘিরে যেসব ভিডিও বা দাবি ছড়িয়ে পড়ে, সেগুলোর সবকিছুকে একইভাবে সত্য ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে তিনি নিজে কোনো যানবাহন চালিয়েছেন, নাকি শুধু তাতে চড়েছেন বা সেটি পরিদর্শন করেছেন—এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বাইরে পুতিনের প্রকাশ্য জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে খেলাধুলা, শারীরিক অনুশীলন এবং বিভিন্ন ধরনের আউটডোর কার্যক্রম।
শেষ কথা:
একজন রাষ্ট্রপ্রধানের এমন ভিন্নধর্মী কর্মকাণ্ড তাই মাঝেমধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।