Second-Hand Smoking: নিজের অজান্তেই প্রিয়জনের ক্ষতি করছেন না তো?
নিজে ধূমপান করেন, কিন্তু পাশে থাকা মানুষটি করেন না। তাহলে আপনার সিগারেটের ধোঁয়া কি শুধু আপনার শরীরের ক্ষতি করছে? উত্তর হলো, না। আপনার আশপাশে থাকা পরিবারের সদস্য, শিশু কিংবা অন্য যে কেউ সেই ধোঁয়ার সংস্পর্শে এলে তার স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এই বিষয়টিই পরিচিত Second-Hand Smoking বা পরোক্ষ ধূমপান হিসেবে।
পরোক্ষ ধূমপান কী?
কেউ সিগারেট, বিড়ি বা অন্য তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করার সময় যে ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, তা আশপাশের মানুষের শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। ফলে নিজে কখনো ধূমপান না করলেও অন্যের ধোঁয়ার কারণে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসতে হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পরোক্ষ ধূমপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ, অন্যের ধোঁয়ার সংস্পর্শ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
আপনার পরিবারের কারা বেশি ঝুঁকিতে?
পরোক্ষ ধূমপান সবার জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে। তবে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের ক্ষেত্রে:
- শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- হাঁপানি থাকলে তার উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।
- ফুসফুসের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।
- আকস্মিক শিশুমৃত্যু সিনড্রোমের (SIDS) ঝুঁকির সঙ্গে পরোক্ষ ধূমপানের সম্পর্ক রয়েছে।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে:
- হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অর্থাৎ, আপনি যে ধোঁয়াকে সামান্য বিষয় মনে করছেন, সেটিই আপনার কাছের মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
ঘরের বাইরে ধূমপান করলেই কি পরিবার নিরাপদ?
অনেকেই মনে করেন, জানালার পাশে, বারান্দায় কিংবা ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে ধূমপান করলেই পরিবারের অন্য সদস্যরা নিরাপদ থাকবেন। কিন্তু ধোঁয়া বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং বন্ধ ঘরে এর ক্ষতিকর উপাদান থেকে যেতে পারে।
এমনকি ধূমপানের পর পোশাক, চুল, আসবাব ও অন্যান্য পৃষ্ঠে তামাকের অবশিষ্টাংশ জমতে পারে। এসব অবশিষ্টাংশের সংস্পর্শকে Third-Hand Smoke বলা হয়।
তাই শুধু জানালা খুলে দেওয়া, ফ্যান চালানো কিংবা ঘরের অন্য পাশে গিয়ে ধূমপান করা পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি দূর করার নির্ভরযোগ্য উপায় নয়।
প্রিয়জনকে সুরক্ষিত রাখতে কী করবেন?
১. বাড়ি ও গাড়িকে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত রাখুন।
২. শিশুদের সামনে বা তাদের আশপাশে ধূমপান করবেন না।
৩. অন্যের বাড়ি, কর্মস্থল ও জনসমাগমস্থলেও ধূমপানমুক্ত পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখান।
৪. পরিবারের কেউ ধূমপান করলে তাকে ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত করুন।
৫. প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা ধূমপান ছাড়ার সহায়তা কর্মসূচির পরামর্শ নিন।
শেষ কথা
ধূমপান ব্যক্তিগত অভ্যাস মনে হলেও এর প্রভাব অনেক সময় নিজের গণ্ডি ছাড়িয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপরও পড়ে। বিশেষ করে শিশুদের পক্ষে নিজের পরিবেশ বেছে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই তাদের সুরক্ষার দায়িত্ব বড়দেরই নিতে হবে।
আপনি ধূমপান করেন কি না, সেটি আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। কিন্তু আপনার ধোঁয়ার কারণে অন্য কেউ যেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন পড়তে চোখ রাখুন AR News-এ।