এত নতুন বিমান দিয়ে কি হবে । বাংলাদেশের বিমানের বহর বাড়িয়ে লাভ কি ।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর বড় করার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে বিমান। এর আগে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি বিমান কেনার চুক্তি ও পরিকল্পনা সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে নতুন ৩৫টি বিমান যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। তবে এত বড় বহর গড়ে তোলার পেছনে কত টাকা ব্যয় হবে এবং এর সুফল কতটা পাওয়া যাবে, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিমান কেনার পেছনে যুক্তি রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানো, দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইট পরিচালনা এবং যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব রুটে বাংলাদেশি যাত্রীদের যাতায়াত বেশি, সেখানে নিজেদের ফ্লাইট বাড়াতে পারলে বিদেশি এয়ারলাইনসের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগও রয়েছে।
কিন্তু বিমান কেনা আর সেই বিমান থেকে লাভ করা এক বিষয় নয়। প্রতিটি উড়োজাহাজের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, পরিচালন ব্যয় এবং ঋণ পরিশোধের মতো বিষয় রয়েছে। নতুন বিমানগুলো নিয়মিত যাত্রী নিয়ে উড়তে না পারলে কিংবা প্রত্যাশিত আয় না হলে এই বিনিয়োগের আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৭৮৫ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফার কথা জানিয়েছে। অর্থাৎ, সংস্থাটির আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন বিমান যুক্ত হলে সেই আয় আরও বাড়ে কি না এবং বিনিয়োগের বিপরীতে কতটা আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়।
এখানে সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশাও কম নয়। বিমান বাড়ানোর পাশাপাশি টিকিটের দাম সহনীয় রাখা, ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা, যাত্রীসেবার মান উন্নত করা এবং নতুন গন্তব্যে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। শুধু বহরের সংখ্যা বাড়লেই এসব সমস্যার সমাধান হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন বিমান কেনার মোট ব্যয়, অর্থায়নের পদ্ধতি, কিস্তি পরিশোধের পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য আয়ের হিসাব জনগণের সামনে পরিষ্কার থাকা। কোন বিমান কত বছর পর আসবে, কোন রুটে চলবে এবং সেই রুট থেকে কী পরিমাণ আয় প্রত্যাশা করা হচ্ছে—এসব তথ্যও সিদ্ধান্তের বাস্তব চিত্র বুঝতে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশের বিমানবহর সম্প্রসারণ দেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কাজে লাগবে, তা নির্ভর করবে পরিকল্পনা, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার ওপর। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু কতগুলো বিমান কেনা হচ্ছে, তা নয়; বরং এই বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনছে, সেটিই হবে বড় বিবেচ্য বিষয়।