মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে মসজিদ নির্মাণে হাজার কোটি টাকা দান, রাশিয়ার সোনালি গম্বুজের গল্প ।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর বুকে সোনালি গম্বুজ আর সুউচ্চ মিনার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বিশাল মসজিদ। বাইরে থেকে দেখলে এর স্থাপত্য নজর কাড়বেই, তবে এর পেছনের গল্পও কম আলোচিত নয়। মসজিদটির পুনর্নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিলেন রুশ ধনকুবের সুলেইমান কেরিমভ।
২০০৬ সালে ফ্রান্সে এক ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন কেরিমভ। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এর পরের বছর মস্কোর ক্যাথেড্রাল মসজিদের নির্মাণ ও সম্প্রসারণে ১০ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতির খবর প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় সে সময়ের বিনিময় হার অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বেশি। বর্তমান বিনিময় হারে অঙ্কটি আরও অনেক বেশি।
তবে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরার পর তিনি মসজিদটি নির্মাণের মানত করেছিলেন, কিংবা ১২০ বছর আজান চালু রাখার জন্যই এই অর্থ দিয়েছিলেন—এমন দাবির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পটির এই অংশ তাই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
মসজিদটির ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯০৪ সালে নির্মিত মূল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে মস্কোর মুসলমানদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল। সময়ের সঙ্গে মুসল্লির সংখ্যা ও প্রয়োজন বাড়তে থাকায় পুরোনো ভবনটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নতুন মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়।
নতুন ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১৭ কোটি মার্কিন ডলার বলে সে সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। অর্থায়নে কেরিমভ ছাড়াও অন্য দাতা ও প্রতিষ্ঠানের অবদান ছিল। বিশাল পরিসর, সোনালি গম্বুজ ও আধুনিক স্থাপত্যের কারণে মসজিদটি এখন মস্কোর অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় স্থাপনা।
একটি দুর্ঘটনা, বিপুল অনুদান আর একটি ঐতিহাসিক মসজিদ—ঘটনাগুলো মিলিয়ে গল্পটি মানুষের আগ্রহ তৈরি করার মতোই। তবে এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া মানত ও ১২০ বছরের আজানের দাবির সত্যতা এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়।