কিম জং উন কি সত্যিই মারা গেছেন?
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দাবি করা হচ্ছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর তিনি কোমায় চলে যান এবং চিকিৎসার জন্য চীনের বেইজিংয়ে নেওয়া হয়। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করা হয়। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। দাবিগুলোর সূত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শিয়ের একটি পোস্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে কিম জং উনের অসুস্থতা, চীনে নেওয়া এবং মৃত্যুর বিষয়ে দাবি করা হলেও তার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
মৃত্যুর গুজবের মধ্যেই প্রকাশ্যে কিম জং উন
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, ১৯ অক্টোবর পিয়ংইয়ংয়ে পোশাক ও জুতা প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন কিম জং উন। পরদিন প্রকাশিত ছবিতে তাঁর সঙ্গে মেয়ে কিম জু আয়ে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দেখা যায়।
২১ অক্টোবর বাংলাদেশের টিবিএস নিউজও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিগুলো মৃত্যুর দাবির বিপরীত তথ্য সামনে এনেছে। তবে উত্তর কোরিয়ায় তথ্যপ্রবাহ সীমিত হওয়ায় দেশটির নেতার বিষয়ে সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
কী বলছে নির্ভরযোগ্য সূত্র?
ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, কিম জং উনের মৃত্যুর দাবির সমর্থনে তাঁরা কোনো তথ্য পাননি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
উত্তর কোরিয়ার মতো দেশে শীর্ষ নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তথ্য গোপনীয় থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে এমন জল্পনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির অসুস্থতা বা মৃত্যুর খবর যাচাই করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের পাশাপাশি সরকারি তথ্য, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।
তাহলে কি কিম জং উন মারা গেছেন?
এখন পর্যন্ত পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, কিম জং উনের মৃত্যুর দাবি সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি। বরং তাঁর সাম্প্রতিক জনসমক্ষে উপস্থিতির ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তাই মৃত্যুর খবরকে সত্য হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর হবে।