AR News
বিজ্ঞান · ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

চীনের সুপার গরু: ক্লোনিংয়ে বড় সাফল্য, বাস্তবে কতটা মিলল দুধ উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি?

চীনের সুপার গরু: ক্লোনিংয়ে বড় সাফল্য, বাস্তবে কতটা মিলল দুধ উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি?

সাধারণ একটি গরুর চেয়ে অনেক বেশি দুধ দিতে পারে—এমন গরুর সংখ্যা বাড়াতে ক্লোনিং প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছে চীন। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দেশটির নিংশিয়া অঞ্চলের লিংউ শহরে উচ্চ দুধ উৎপাদনক্ষম গরুর তিনটি ক্লোন বাছুর জন্মের খবর প্রকাশিত হয়। তখন থেকেই এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

কিন্তু গরু ক্লোন করা গেলেই কি প্রত্যাশামতো দুধ পাওয়া যাবে? এ প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

বছরে ১৮ টন দুধ দেওয়ার কথা

প্রকল্পটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গবেষকেরা জানিয়েছিলেন, ক্লোন করা গরুগুলো বড় হলে প্রতিটি বছরে প্রায় ১৮ টন দুধ দিতে পারবে। তাদের জীবদ্দশায় দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ১০০ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশা করা হয়েছিল।

তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। এই সংখ্যাগুলো ছিল গবেষকদের পূর্বাভাস। ক্লোন করা ওই গরুগুলো বাস্তবে বছরে কত দুধ দিয়েছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাদের উৎপাদনক্ষমতা নিয়ে করা অনুমানকে নিশ্চিত ফলাফল বলা যাবে না।

কীভাবে তৈরি করা হয়েছে এই গরু?

চীনা গবেষকেরা উচ্চ দুধ উৎপাদনক্ষম হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর দেহকোষ ব্যবহার করে ক্লোন তৈরি করেন। সহজভাবে বললে, একটি গরুর জিনগত বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ আরেকটি প্রাণী তৈরির চেষ্টা করা হয় এই পদ্ধতিতে।

চীনের জন্য এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভালো জাতের গরু আমদানি ও প্রজননের মাধ্যমে পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদন ধরে রাখা ব্যয়বহুল হতে পারে। সফলভাবে ক্লোন তৈরি করা গেলে উন্নত দুধ উৎপাদনক্ষম গরুর সংখ্যা বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এক হাজার গরু তৈরির পরিকল্পনা কোথায় দাঁড়িয়েছে?

২০২৩ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এক হাজারের বেশি সুপার গরুর পাল তৈরির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, পরিকল্পনা ঘোষণার খবর আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবে সফল হওয়ার খবর এক নয়।

আরও খবর পড়ুন