AR News
প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ · ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

Samsung কত বড়? আর ২০৪০ সাল পর্যন্ত তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

Samsung কত বড়? আর ২০৪০ সাল পর্যন্ত তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

Samsung নামটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্মার্টফোন, টেলিভিশন কিংবা গৃহস্থালি পণ্যের ছবি।

কিন্তু Samsung Electronics শুধু মোবাইল ফোন বা টিভি তৈরির কোম্পানি নয়।

সেমিকন্ডাক্টর, মেমোরি চিপ, ডিসপ্লে, স্মার্টফোন, টেলিভিশন, গৃহস্থালি প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক, গাড়ির প্রযুক্তি এবং এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স—সব মিলিয়ে Samsung বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।

আর ২০২৬ সালে এসে Samsung যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, সেটি দেখলে বোঝা যায়—কোম্পানিটি শুধু বর্তমান ব্যবসা ধরে রাখতে নয়, আগামী এক থেকে দেড় দশকের প্রযুক্তি বাজারের জন্যও বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Samsung কত বড়?

Samsung Electronics-এর ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানিটির বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৩৩৩.৬ ট্রিলিয়ন কোরিয়ান ওন।

একই বছরে তাদের operating profit ছিল প্রায় ৪৩.৬ ট্রিলিয়ন ওন, আর net profit ছিল প্রায় ৪৫.২ ট্রিলিয়ন ওন।

কোম্পানিটির ২০২৫ সালের R&D বা গবেষণা ও উন্নয়ন খরচ ছিল প্রায় ৩৭.৮ ট্রিলিয়ন ওন।

Samsung-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে তাদের কর্মী সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার, এবং তারা বিশ্বের ৭৬টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।

অর্থাৎ Samsung-এর আকার শুধু একটি স্মার্টফোন কোম্পানির মতো নয়—এটি একটি বিশাল diversified technology group।

এই তথ্যগুলো Samsung-এর নিজস্ব আর্থিক ও corporate disclosures থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

Samsung-এর আসল শক্তি কোথায়?

Samsung-এর ব্যবসাকে মোটামুটি দুটি বড় অংশে দেখা যায়।

প্রথমটি হলো Device eXperience বা DX।

এখানে রয়েছে স্মার্টফোন, টেলিভিশন, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য consumer technology।

দ্বিতীয়টি হলো Device Solutions বা DS।

এই অংশের মধ্যে রয়েছে Memory chip, System LSI এবং Foundry business।

আর এখানেই Samsung-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় অংশ।

কারণ বর্তমানে AI-এর জন্য শুধু শক্তিশালী সফটওয়্যার নয়, প্রচুর পরিমাণে উন্নত semiconductor এবং high-bandwidth memory বা HBM দরকার।

AI-এর যুগে Samsung-এর বড় বাজি—HBM

AI model যত বড় হচ্ছে, তত বেশি data দ্রুত processing করার প্রয়োজন হচ্ছে।

এই কারণে HBM বা High Bandwidth Memory এখন AI infrastructure-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

Samsung ইতোমধ্যে HBM4-এর mass production এবং commercial shipment শুরু করেছে।

এরপর ২০২৬ সালের মে মাসে Samsung জানায়, তারা ১২-layer HBM4E-এর sample shipment শুরু করেছে।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই HBM4E-এর লক্ষ্য হলো আরও demanding next-generation AI workload সামলানো।

২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফল প্রকাশের সময় Samsung আরও জানায়, HBM4-এর পাশাপাশি তারা HBM4E, DDR5, SOCAMM2 এবং অন্যান্য high-value memory product-এর দিকে জোর দিচ্ছে।

কোম্পানির মতে, AI infrastructure এবং agentic AI-এর প্রসারের কারণে server DRAM, eSSD এবং HBM-এর চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

শুধু Memory নয়—Samsung Foundry-তেও বড় পরিকল্পনা

Samsung-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা হলো Foundry।

অর্থাৎ অন্য কোম্পানির জন্য semiconductor তৈরি করা।

২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আপডেট অনুযায়ী Samsung তাদের advanced semiconductor manufacturing-এ 2-nanometer technology বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

কোম্পানিটি AI এবং high-performance computing বা HPC-এর জন্য নতুন customer এবং design win পাওয়ার দিকেও জোর দিচ্ছে।

এখানে Samsung-এর লক্ষ্য শুধু chip বানানো নয়।

তাদের দীর্ঘমেয়াদি ধারণা হলো—logic chip, memory, foundry এবং advanced packaging—সবকিছুকে একটি integrated semiconductor solution হিসেবে ব্যবহার করা।

Samsung-এর shareholder letter-এ কোম্পানি নিজেই এই end-to-end semiconductor capability-এর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

এবার আসি Samsung-এর সবচেয়ে বড় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়

২০২৬ সালের ২৯ জুন Samsung একটি বড় domestic investment vision প্রকাশ করে।

পরিকল্পনাটি ২০২৬ সাল থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত।

Samsung-এর official disclosure অনুযায়ী, এই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট প্রায় ২,৪৫০ ট্রিলিয়ন কোরিয়ান ওন বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ২,১০০ ট্রিলিয়ন ওন semiconductor business-এর জন্য নির্ধারিত।

পরিকল্পনায় Yongin ও অন্যান্য semiconductor complex-এর জন্য প্রায় ১,৬৫০ ট্রিলিয়ন ওন এবং Gwangju-র জন্য প্রায় ৪০০ ট্রিলিয়ন ওনের বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া Cheonan ও Onyang এলাকায় HBM fabrication facility এবং Gwangju-তে advanced semiconductor cluster তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—Gumi-তে humanoid robot production line তৈরির পরিকল্পনাও এই roadmap-এর অংশ।

তবে মনে রাখতে হবে, এটি একটি forward-looking investment plan। Samsung নিজেই বলেছে, বাজার পরিস্থিতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশ পরিবর্তিত হলে পরিকল্পনা পরিবর্তিত হতে পারে।

Samsung কি তাহলে রোবটের ব্যবসায়ও ঢুকছে?

হ্যাঁ।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে Samsung একটি নতুন Robotics eXperience বা RX division তৈরি করার ঘোষণা দেয়।

Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই division-এর কাজ হবে Samsung-এর robotics strategy, core technology development এবং commercialisation এগিয়ে নেওয়া।

Samsung যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং জাপানে robotics research hub তৈরির পরিকল্পনাও করছে।

কোম্পানির পরিকল্পনায় humanoid robot-এর ব্যবহার প্রথমে manufacturing-এর মতো industrial environment-এ হতে পারে। পরবর্তীতে home এবং retail sector-এ এর ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

অর্থাৎ Samsung-এর ভবিষ্যৎ roadmap-এ robot শুধু একটি experimental technology নয়; এটিকে একটি সম্ভাব্য growth business হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Smartphone-এর ভবিষ্যৎ কী?

Samsung-এর smartphone business-ও AI-কেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।

২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফল অনুযায়ী, Samsung Galaxy ecosystem-এ AI experience আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

কোম্পানি নতুন form factor এবং intelligent eyewear-এর মতো নতুন category নিয়েও কাজ করছে।

অর্থাৎ ভবিষ্যতের Galaxy শুধু smartphone-কেন্দ্রিক থাকবে না—phone, wearable, eyewear এবং অন্যান্য connected device মিলিয়ে একটি AI ecosystem তৈরির দিকেও Samsung এগোচ্ছে।

Display এবং TV-তেও AI

Samsung Display-এর ক্ষেত্রেও OLED technology গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধের পরিকল্পনায় Samsung 8.6-generation IT OLED line-এর mass production এবং tablet, gaming ও automotive market-এ OLED supply বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।

অন্যদিকে TV business-এ Samsung Vision AI ব্যবহার করে personalized viewing experience বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

গাড়ির প্রযুক্তিতেও Samsung

Samsung-এর Harman business-এর মাধ্যমে automotive technology-তেও তাদের উপস্থিতি রয়েছে।

Digital cockpit, car audio এবং advanced driver assistance system বা ADAS-এর মতো technology-তে Samsung ভবিষ্যৎ বাজার ধরতে চাইছে।

২০২৫ সালের shareholder letter-এ Samsung জানায়, Harman-কে global automotive solutions business হিসেবে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গবেষণা ও প্রযুক্তিতে কত টাকা খরচ করছে?

Samsung-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো research।

২০২৫ সালে Samsung Electronics প্রায় ৩৭.৮ ট্রিলিয়ন ওন R&D-তে খরচ করেছে।

Samsung-এর corporate information অনুযায়ী, তাদের প্রায় ৪০টি R&D center রয়েছে।

আর semiconductor sector-এর বিনিয়োগের পাশাপাশি AI, robotics, display, automotive এবং connected devices-এর মতো ক্ষেত্রেও গবেষণা বাড়ানো হচ্ছে।

Samsung-এর brand value কত?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হলো Interbrand।

Interbrand-এর ২০২৫ Best Global Brands গবেষণায় Samsung-এর brand value হিসাব করা হয়েছে প্রায় ৯০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

Interbrand Samsung-কে বিশ্বব্যাপী ৫ নম্বর brand হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং এটি ছিল টানা ষষ্ঠ বছর Samsung-এর global top-five অবস্থান।

তবে brand value এবং কোম্পানির বাজারমূল্য এক জিনিস নয়।

Brand value হলো একটি ব্র্যান্ডের অর্থনৈতিক মূল্য সম্পর্কে Interbrand-এর একটি গবেষণা-ভিত্তিক মূল্যায়ন।

তাহলে Samsung-এর ভবিষ্যৎ Roadmap সংক্ষেপে কী?

২০২৬ থেকে ২০৪০ পর্যন্ত Samsung-এর প্রকাশিত পরিকল্পনাগুলোকে কয়েকটি বড় অংশে ভাগ করা যায়।

এক—AI semiconductor।

HBM4, HBM4E, advanced memory এবং AI chip ecosystem।

দুই—Advanced Foundry।

2-nanometer এবং পরবর্তী generation semiconductor manufacturing।

তিন—বড় semiconductor manufacturing infrastructure।

Yongin, Gwangju, Cheonan এবং Onyang-এর মতো এলাকায় বিশাল বিনিয়োগ।

চার—Robotics।

Humanoid robot, physical AI এবং industrial robotics।

পাঁচ—AI ecosystem।

Smartphone, wearable, intelligent eyewear, TV এবং home appliance-এ AI integration।

ছয়—Automotive technology।

Harman-এর মাধ্যমে connected car, digital cockpit এবং ADAS technology।

সাত—Advanced Display।

OLED, gaming, tablet এবং automotive display market।

কিন্তু এই পরিকল্পনার ঝুঁকিও আছে

Samsung-এর roadmap বিশাল হলেও এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবে সফল হবে।

Semiconductor industry অত্যন্ত cyclical।

Chip-এর দাম, AI demand, global competition, electricity ও infrastructure cost, geopolitics এবং supply chain—সবকিছু Samsung-এর ভবিষ্যৎ ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

আর advanced semiconductor manufacturing-এ TSMC, SK Hynix এবং অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতাও রয়েছে।

Reuters-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে Samsung-এর Broadcom-এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি semiconductor cooperation-এর কথাও উঠে এসেছে, যেখানে memory, foundry এবং advanced packaging—তিনটি ক্ষেত্রই গুরুত্বপূর্ণ।

তাই Samsung-এর ভবিষ্যৎ roadmap-কে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ফলাফল হিসেবে না দেখে, কোম্পানির বর্তমান ঘোষিত বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত লক্ষ্য হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিসঙ্গত।

শেষ কথা

Samsung একসময় মূলত consumer electronics-এর জন্য পরিচিত ছিল।

কিন্তু এখন তাদের ব্যবসার কেন্দ্র ধীরে ধীরে AI semiconductor, advanced manufacturing, robotics, automotive technology এবং AI-powered device ecosystem-এর দিকে আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

২০২৫ সালে ৩৩৩.৬ ট্রিলিয়ন ওনের revenue, প্রায় ৩৭.৮ ট্রিলিয়ন ওনের R&D expenditure এবং ২০২৬ থেকে ২০৪০ পর্যন্ত ২,৪৫০ ট্রিলিয়ন ওনের ঘোষিত domestic investment vision—এই সংখ্যাগুলো দেখায় Samsung আগামী বছরগুলোতে কত বড় পরিসরে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

এখন প্রশ্ন হলো—

AI-এর যুগে Samsung কি শুধু smartphone ও memory chip-এর কোম্পানি থাকবে?

নাকি semiconductor থেকে robot, car technology থেকে AI ecosystem—সব মিলিয়ে আরও বড় technology platform হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে?

এর উত্তর নির্ভর করবে Samsung তাদের এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো কতটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর।

এটি ছিল AR News-এর বিশেষ প্রতিবেদন।

আরও খবর পড়ুন