ইরানের টাকার মূল্য এত কম কেন?
ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দর আবারও বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। মুক্তবাজারে এক মার্কিন ডলারের দাম ২৬ লাখের বেশি রিয়ালে পৌঁছেছে। মুদ্রার এই দুর্বলতা শুধু বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেই নয়, এর প্রভাব পড়ছে দেশটির সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও।
রিয়ালের এত বড় দরপতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি। ইরানে পণ্য ও সেবার দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় স্থানীয় মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই পরিমাণ রিয়াল দিয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য কেনা যাচ্ছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা। ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে ডলার ও অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। ডলারের সরবরাহ কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই এর দাম বাড়ে, আর বিপরীতে রিয়ালের মূল্য কমে যায়।
তবে শুধু নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। ইরানের অর্থনীতিতে সরকারি বাজেট ঘাটতি, মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি, বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও রিয়ালের ওপর চাপ তৈরি করেছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের আস্থার সংকট। যখন মানুষ মনে করেন স্থানীয় মুদ্রার মূল্য আরও কমতে পারে, তখন তারা রিয়ালে সঞ্চয় না রেখে ডলার, সোনা কিংবা অন্যান্য সম্পদ কিনতে চান। এতে ডলারের চাহিদা আরও বাড়ে এবং রিয়ালের ওপর চাপ তৈরি হয়।
রিয়ালের দুর্বলতার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমদানির ওপর। বিদেশ থেকে আনা পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আমদানিনির্ভর কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির খরচ বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচ সাধারণ ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে বাজারে ডলার ছাড়লে রিয়ালের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাটিকে স্থিতিশীল করতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানো প্রয়োজন।
অর্থাৎ ইরানের রিয়ালের বর্তমান দুর্বলতা কোনো একদিনের ঘটনা নয়। বহু বছরের অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, নিষেধাজ্ঞা এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ধীরে ধীরে দেশটির মুদ্রার মূল্যকে এমন অবস্থায় নিয়ে এসেছে।