এবার টেসলাকে টেক্কা দিয়ে গাড়ি উড়িয়ে দেখাল আলেফ ।
গাড়ি রাস্তায় চলবে, আবার প্রয়োজনে উড়েও যাবে—এমন ধারণা নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান আলেফ অ্যারোনটিকস। এবার তাদের উড়ন্ত গাড়ির একটি ভিডিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে গাড়িটিকে টেসলা রোডস্টারের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে দেখা যায়। ঘটনাটি ঘিরে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ভবিষ্যতের পরিবহন প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে।
আলেফের তৈরি এই গাড়ির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু আকাশে ওড়ার জন্য নয়, সাধারণ গাড়ির মতো সড়কে চলার উপযোগী করেও তৈরি করা হচ্ছে। প্রচলিত বিমানের মতো দীর্ঘ রানওয়ের প্রয়োজন ছাড়াই উল্লম্বভাবে ওপরে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে এর নকশা তৈরি হয়েছে। উড্ডয়নের জন্য এতে বৈদ্যুতিক প্রপালশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে ভিডিওতে গাড়িটিকে উড়তে দেখা গেলেও এটিকে এখনই পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়ি হিসেবে রাস্তায় নামানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এমনটা বলা যাবে না। পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফল হওয়া এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য নিরাপদ ও অনুমোদিত যান তৈরি করা এক বিষয় নয়। এ ধরনের গাড়ির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, উড্ডয়নের সীমাবদ্ধতা এবং সরকারি অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ।
আলেফের এই উদ্যোগের সঙ্গে টেসলার নাম জড়িয়ে আলোচনার কারণও রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে টেসলা পরিচিত হলেও আলেফের লক্ষ্য আরও ভিন্ন—সড়ক ও আকাশ, দুই মাধ্যমেই চলতে পারে এমন যান তৈরি করা। ফলে দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি নিয়ে তুলনা তৈরি হলেও তাদের গাড়ির উদ্দেশ্য ও সক্ষমতা এক নয়।
বিশেষজ্ঞদের আগ্রহের জায়গা হলো, এই প্রযুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। উড়ন্ত গাড়ি সফলভাবে তৈরি করা গেলেও এর দাম, ব্যাটারির সক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ, আকাশপথ ব্যবহারের নিয়ম এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
সব মিলিয়ে, আলেফের উড়ন্ত গাড়ির ভিডিও ভবিষ্যতের পরিবহনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এটি ব্যক্তিগত যাতায়াতের প্রচলিত মাধ্যম হয়ে উঠতে আরও পরীক্ষা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন।