Full Story

ইবোলা নাকি করোনা—কোন ভাইরাসে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি?

ক্যাটাগরি: স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান সময়ের সঙ্গে পৃথিবীতে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের সংক্রামক রোগ। কোনোটি সীমিত অঞ্চলে প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করেছে, আবার কোনোটি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। কয়েক বছর আগেই করোনাভাইরাসের মহামারি দেখেছে পৃথিবী, যার প্রভাব পড়েছিল কোটি কোটি মানুষের জীবনে। এবার আলোচনায় ইবোলা ভাইরাস। প্রশ্ন হলো, ইবোলা কি করোনার চেয়ে বেশি ভয়ংকর? কোন ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি, আর কোনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে? ইবোলা: মৃত্যুঝুঁকি কেন বেশি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা রোগে গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। অতীতের বিভিন্ন প্রাদুর্ভাবে এই হার ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। তবে ভাইরাসের ধরন, প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসার সুযোগের ওপর মৃত্যুর ঝুঁকি নির্ভর করে। ইবোলার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা ও প্রচণ্ড দুর্বলতা। পরে বমি, ডায়রিয়া এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণও দেখা যায়। ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা, যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। করোনা: কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বজুড়ে? করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে বিপদের ধরন কিছুটা আলাদা। ২০১৯ সালের শেষ দিকে শনাক্ত হওয়া কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী মহামারিতে রূপ নেয়। ভাইরাসটি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে নির্গত সংক্রমণক্ষম কণার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। বিশেষ করে কাছাকাছি অবস্থান এবং বায়ু চলাচল কম এমন বদ্ধ স্থানে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। করোনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার আগেই ভাইরাসটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষ এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে করোনা শুধু বয়স্কদের জন্য বিপজ্জনক নয়; যেকোনো বয়সের মানুষ গুরুতর অসুস্থ হতে পারেন। ইবোলা ও করোনার মধ্যে মূল পার্থক্য কী? দুটি ভাইরাসের তুলনা করতে হলে শুধু মৃত্যুহার দেখলে চলবে না। ইবোলার ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার পর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, করোনার শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা বিশ্বব্যাপী বিপুলসংখ্যক মানুষকে আক্রান্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইবোলা সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে ছড়ায়। উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগে সাধারণত সংক্রমণ ছড়ায় না। বিপরীতে, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা, বদ্ধ স্থানে একসঙ্গে সময় কাটানো এবং উপসর্গহীন সংক্রমণের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। এ কারণে ইবোলার মৃত্যুহার বেশি হলেও সামগ্রিকভাবে কোন ভাইরাস বেশি বিপজ্জনক, তা নির্ভর করে সংক্রমণের বিস্তার, আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, চিকিৎসার সুযোগ এবং প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার ওপর। তাহলে কোন ভাইরাস বেশি ভয়ংকর? ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার পর মৃত্যুর ঝুঁকি বিবেচনা করলে ইবোলা সাধারণত করোনার তুলনায় অনেক বেশি প্রাণঘাতী। কিন্তু ব্যাপক জনগোষ্ঠীতে সংক্রমণ ছড়ানোর প্রভাব বিবেচনা করলে করোনার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনার মহামারিতে বিশ্বজুড়ে ৭১ লাখের বেশি মৃত্যুর খবর নথিভুক্ত হয়েছে বলে WHO জানিয়েছে; প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, ইবোলার প্রাদুর্ভাবগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট অঞ্চল ও সংক্রমণ-শৃঙ্খলকে কেন্দ্র করে ছড়ায়, যদিও বড় প্রাদুর্ভাবে এর প্রভাবও ভয়াবহ হতে পারে। তাই একটি ভাইরাসকে শুধু মৃত্যুহার দিয়ে এবং অন্যটিকে শুধু সংক্রমণের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। দুটি ভাইরাসের সংক্রমণপথ ও ঝুঁকির ধরন আলাদা। কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়? ইবোলার ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও অন্যান্য শারীরিক তরলের সংস্পর্শ এড়ানো এবং সন্দেহজনক সংক্রমণ দ্রুত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। করোনার ক্ষেত্রে বদ্ধ স্থানে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নেওয়া গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। ইবোলা ও করোনা—দুটিই প্রাণঘাতী হতে পারে, কিন্তু একইভাবে নয়। ইবোলায় মৃত্যুহারের ঝুঁকি বেশি; করোনার ক্ষেত্রে ব্যাপক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা বিশ্বজুড়ে বড় সংকট তৈরি করেছিল। কোনোটিকেই অবহেলা না করে সঠিক তথ্য জানা এবং বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Posted by: Abdul Rohim