Full Story
এআইয়ের তথ্য সংগ্রহে লাগাম টানতে নতুন উদ্যোগ Google ও OpenAI-এর ।

এআইয়ের তথ্য সংগ্রহে লাগাম টানতে নতুন উদ্যোগ Google ও OpenAI-এর ।

ইন্টারনেটে প্রতিদিন অসংখ্য ওয়েবসাইটে নতুন নতুন সংবাদ, গবেষণা, ছবি ও তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। এসব তথ্যের বড় একটি অংশ ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো ওয়েবসাইটের প্রকাশিত তথ্য এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এত দিন ওয়েবসাইট মালিকদের জন্য সহজ ছিল না। এবার সেই নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ করতে একসঙ্গে উদ্যোগ নিয়েছে Google, OpenAI ও Microsoft। ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানগুলো ঘোষণা দেয়, ওয়েবসাইটের মালিকদের জন্য একটি অভিন্ন নির্দেশনা পদ্ধতি সমর্থন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম ব্যবহার করে একাধিক এআই প্রতিষ্ঠানের কাছে নিজেদের কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে পছন্দ জানানো সম্ভব হবে। একটি নির্দেশনাতেই একাধিক এআই প্রতিষ্ঠানকে জানানো যাবে নতুন উদ্যোগটির মূল ভিত্তি হলো ওয়েবসাইটের "robots.txt" ফাইল। সাধারণত ওয়েবসাইটের এই ফাইল ব্যবহার করে সার্চ ইঞ্জিন ও বিভিন্ন ওয়েব ক্রলারকে জানানো হয়, কোন অংশে প্রবেশ করা যাবে এবং কোন অংশে যাবে না। এবার এই ফাইলের মাধ্যমে এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ওয়েবসাইটের তথ্য ব্যবহার করার বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় "__usage_ai-training" নামে একটি পলিসি টোকেন ব্যবহার করা হবে। কোনো ওয়েবসাইট মালিক নিজের সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটের তথ্য এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করতে দিতে না চাইলে নির্দেশনাটি এভাবে লিখতে পারবেন: "User-Agent: __usage_ai-training" "Disallow: /" এর অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের কোনো কনটেন্ট এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। চাইলে নির্দিষ্ট পেজ বা ফোল্ডারের ক্ষেত্রেও আলাদা নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব। Google ও OpenAI কবে থেকে নিয়মটি কার্যকর করবে? Google জানিয়েছে, ২০২৭ সালে অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাটি সমর্থনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই Google-Extended নামে আলাদা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিয়ে আসছে। অন্যদিকে OpenAI জানিয়েছে, তারা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন সংকেতটি কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তবে বাস্তবায়নের বিস্তারিত সময়সূচি পরে জানানো হবে। Microsoft জানিয়েছে, ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করা শুরু করবে। প্রতিষ্ঠানটি এআই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এআইয়ের তৈরি উত্তরে ওয়েবসাইটের তথ্য ব্যবহারের বিষয়েও আলাদা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আনছে। এদিকে Anthropic-ও প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি বাস্তবায়ন শুরু করার কথা জানিয়েছে। এআই প্রশিক্ষণ বন্ধ করলেই কি ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ বন্ধ হবে? এখানেই নতুন উদ্যোগটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি রয়েছে। এআই প্রশিক্ষণের জন্য তথ্য ব্যবহার এবং ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ এক বিষয় নয়। কোনো এআই প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, আবার সেই তথ্য ব্যবহার করে সরাসরি মডেল প্রশিক্ষণ না-ও করতে পারে। একইভাবে, কোনো এআই সিস্টেম ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর তৈরির সময় ওয়েবসাইটের তথ্য ব্যবহার করতে পারে। প্রযুক্তিগতভাবে একে গ্রাউন্ডিং (Grounding) বলা হয়। তাই নতুন নির্দেশনায় এআই প্রশিক্ষণের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ধরনের ক্রলিং বা এআইয়ের উত্তরে ওয়েবসাইটের তথ্য ব্যবহার বন্ধ করে দেবে না। এসব ব্যবহারের জন্য আলাদা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হতে পারে। ওয়েবসাইট মালিকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা নির্দেশনা পরিচালনা করতে হয়। ফলে ছোট ওয়েবসাইট, সংবাদমাধ্যম, ব্লগ ও স্বাধীন প্রকাশকদের জন্য বিষয়টি অনেক সময় জটিল হয়ে ওঠে। একটি অভিন্ন নির্দেশনা কার্যকর হলে ওয়েবসাইট মালিকদের সেই কাজ সহজ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রকাশক নিজেদের কনটেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চান, তাঁদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। তবে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—এটি এখনো একটি স্বেচ্ছামূলক উদ্যোগ এবং প্রস্তাবিত প্রযুক্তিগত নির্দেশনা। এটি কোনো চূড়ান্ত আন্তর্জাতিক আইন নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘোষণার অর্থও এই নয় যে, সব এআই কোম্পানি বাধ্যতামূলকভাবে নিয়মটি অনুসরণ করবে। ইতিমধ্যে প্রশিক্ষিত মডেল থেকে পুরোনো তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থাও এটি নয়। সব মিলিয়ে, এআই প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে ওয়েবসাইট প্রকাশকদের অধিকার ও কনটেন্ট ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে উদ্যোগটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তবায়ন এবং আরও বেশি এআই কোম্পানির অংশগ্রহণের ওপর ।

Posted by: Abdul Rohim