Full Story
AI-এর পেছনে বিদ্যুতের বিশাল খরচ: বাড়ছে ডেটা সেন্টারের চাপ, ২০৩০ সালে দ্বিগুণ হতে পারে চাহিদা

AI-এর পেছনে বিদ্যুতের বিশাল খরচ: বাড়ছে ডেটা সেন্টারের চাপ, ২০৩০ সালে দ্বিগুণ হতে পারে চাহিদা

আপনি যখন ChatGPT বা অন্য কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) কাছে একটি প্রশ্ন করেন, তখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই উত্তর পেয়ে যান। কিন্তু এই দ্রুত উত্তরের পেছনে কাজ করে বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো, হাজার হাজার সার্ভার এবং বড় বড় ডেটা সেন্টার। এসব প্রযুক্তি পরিচালনা করতে প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ। AI-এর ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে এসব ডেটা সেন্টারের বিদ্যুতের চাহিদা। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) প্রকাশিত ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে AI-নির্ভর ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ২০৩০ সালে দ্বিগুণ হতে পারে বিদ্যুতের চাহিদা IEA-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল প্রায় ৪৮৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা (TWh)। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ এই পরিমাণ প্রায় ৯৫০ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে AI প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ। বর্তমানে AI শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কিংবা লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ছবি ও ভিডিও তৈরি, জটিল গবেষণা, সফটওয়্যার তৈরি এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম AI এজেন্টের ব্যবহারও বাড়ছে। AI আরও দক্ষ হচ্ছে, তবু বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে কেন? এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে একটি AI প্রশ্নের উত্তর তৈরি করতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের পরিমাণ কমছে। অর্থাৎ প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে AI ক্রমেই বেশি বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী হচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে বাড়ছে AI ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং ব্যবহারের পরিমাণ। পাশাপাশি ভিডিও তৈরি, জটিল বিশ্লেষণ ও স্বয়ংক্রিয় AI এজেন্টের মতো বিদ্যুৎনির্ভর কাজের বিস্তার ঘটছে। ফলে প্রতিটি কাজের বিদ্যুৎ খরচ কমলেও সব কাজ মিলিয়ে মোট বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বড় চ্যালেঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ ডেটা সেন্টার পরিচালনায় শুধু সার্ভার চালানোর জন্যই বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় না। সার্ভারগুলো অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া ঠেকাতে সার্বক্ষণিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা, ব্যাকআপ বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য অবকাঠামো পরিচালনারও প্রয়োজন হয়। এ কারণে বড় ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রিডের সক্ষমতা, নতুন সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সরবরাহ—সবকিছুই এখন এই খাতের সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত বড় চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যতের AI উন্নয়নে বিদ্যুৎই হতে পারে বড় বাধা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ভবিষ্যতে চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে এই প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবেশের ওপর প্রভাব এবং বিদ্যুতের দাম নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সব মিলিয়ে, AI-এর ভবিষ্যৎ শুধু উন্নত চিপ, শক্তিশালী কম্পিউটার কিংবা নতুন সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করছে না। এর পেছনে প্রয়োজন হবে বিশাল বিদ্যুৎ অবকাঠামোও। তাই আগামী দিনে AI প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করাও দেশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। AR News — খবর, তথ্য ও বিশ্লেষণ।

Posted by: Abdul Rohim