AR News
নিউজ · ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নামাজ পড়তে বাধা দেওয়ায় লন্ডনে পুরো হোটেল কিনে মসজিদ—ভাইরাল দাবির আসল ঘটনা ।

নামাজ পড়তে বাধা দেওয়ায় লন্ডনে পুরো হোটেল কিনে মসজিদ—ভাইরাল দাবির আসল ঘটনা ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি গল্প ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে—লন্ডনে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়ার পর মুসলিম ধনকুবের আসিফ আজিজ নাকি পুরো একটি হোটেল কিনে সেটিকে মসজিদে রূপান্তর করেছেন।

গল্পটি আকর্ষণীয় হলেও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল নেই।

আসলে কী ঘটেছিল?

ঘটনাটি লন্ডনের বিখ্যাত Trocadero কমপ্লেক্সকে ঘিরে। ব্রিটিশ-মালাউই বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী আসিফ আজিজ ২০০৫ সালে Trocadero কিনেছিলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এর মূল্য ছিল প্রায় ২২ কোটি পাউন্ডের বেশি।

তবে তিনি এটি মসজিদ বানানোর উদ্দেশ্যে কেনেননি—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং Trocadero তখন একটি বড় বিনোদন ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ছিল। পরবর্তী সময়ে এর একটি অংশে হোটেলও চালু হয়। ২০২০ সালে Zedwell Piccadilly Hotel সেখানে কার্যক্রম শুরু করে।

তাহলে মসজিদ কোথায় তৈরি হচ্ছে?

এখানেই ভাইরাল দাবির সঙ্গে বাস্তবতার বড় পার্থক্য।

Trocadero ভবনের একটি অংশে আগে Metro Cinema ছিল। সিনেমাটি ২০০৬ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জায়গাটি দীর্ঘদিন খালি পড়ে ছিল। ২০২৩ সালে ওই খালি অংশকে নামাজের জায়গা ও কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

Westminster City Council-এর পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট ধারণক্ষমতা ৩৯০ জন। নিচের বেসমেন্টে প্রায় ২৫০ জন এবং মেজানাইন অংশে আরও ১৪০ জনের নামাজের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়।

Aziz Foundation-এর তথ্য অনুযায়ী, এই প্রার্থনা-কেন্দ্রটি Trocadero ভবনের ১.৫ শতাংশেরও কম জায়গা দখল করবে। এটি পুরো ভবন বা পুরো হোটেলকে মসজিদে রূপান্তর করার কোনো প্রকল্প নয়।

কেন এই নামাজের জায়গা প্রয়োজন ছিল?

Aziz Foundation জানিয়েছিল, লন্ডনের West End এলাকায় কর্মরত, বসবাসকারী ও ভ্রমণকারী মুসলিমদের জন্য পর্যাপ্ত নামাজের জায়গার সংকট রয়েছে। কাছাকাছি কয়েকটি মসজিদেও জায়গার সংকট ছিল।

ফাউন্ডেশনের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন জায়গাটি মুসলিম নারী-পুরুষদের জন্য নামাজের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কমিউনিটি কার্যক্রম ও আন্তধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্যও ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়।

২০২০ সালে কী হয়েছিল?

মজার বিষয় হলো, ২০২০ সালে একই এলাকায় ১,০০০ জন ধারণক্ষমতার একটি বড় প্রার্থনাকেন্দ্রের পরিকল্পনা সামনে এসেছিল। সেটি পরে প্রত্যাহার করা হয়।

পরবর্তীতে ছোট আকারের সংশোধিত পরিকল্পনা করা হয়। ২০২৩ সালে Westminster City Council সেটির অনুমোদন দেয় এবং ধারণক্ষমতা ৩৯০ জন নির্ধারণ করা হয়।

তাহলে “নামাজ পড়তে বাধা দেওয়ায় হোটেল কিনেছিলেন”—দাবিটি কি সত্য?

এ দাবির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিশ্বস্ত সংবাদ প্রতিবেদন, Aziz Foundation-এর তথ্য এবং Westminster City Council-এর পরিকল্পনা নথিতে Trocadero কেনার কারণ হিসেবে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়ার কোনো ঘটনার উল্লেখ নেই। বরং নথিভুক্ত তথ্য হলো—আজিজ ২০০৫ সালে Trocadero কিনেছিলেন এবং বহু বছর পর এর একটি খালি অংশকে নামাজ ও কমিউনিটি ব্যবহারের জন্য নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

ফলে “নামাজ পড়তে বাধা দেওয়ায় পুরো হোটেল কিনে মসজিদ বানিয়েছেন”—এই গল্পটি একটি সত্য ঘটনার সঙ্গে অতিরঞ্জিত ও যাচাই না-করা একটি অংশ যুক্ত করে তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

- ব্যবসায়ী: আসিফ আজিজ

- সম্পত্তি: London Trocadero

- কেনার সময়: ২০০৫

- পরবর্তীতে হোটেল: Zedwell Piccadilly

- নামাজের স্থান: Piccadilly Prayer Space / Piccadilly Community Centre

- অনুমোদিত ধারণক্ষমতা: প্রায় ৩৯০ জন

- অবস্থান: Trocadero complex, Piccadilly Circus-এর কাছে, London

- পুরো হোটেল কি মসজিদ হয়েছে? না

- পুরো Trocadero কি মসজিদ হয়েছে? না

- নামাজে বাধা দেওয়ার কারণে ভবন কেনার প্রমাণ আছে? নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফ্যাক্ট-চেক রায়

ভাইরাল দাবিটি: বিভ্রান্তিকর।

লন্ডনের Trocadero-তে সত্যিই একটি মুসলিম প্রার্থনাকেন্দ্র ও কমিউনিটি সেন্টার তৈরির অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু পুরো হোটেল কিনে মসজিদ বানানোর ঘটনা নয় এবং নামাজে বাধা দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ভবনটি কেনা হয়েছিল—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

সূত্র: Westminster City Council, Aziz Foundation, The Standard, The National, Full Fact।

আরও খবর পড়ুন