Full Story
এল নিনো কী এবং এটি কীভাবে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলে?

এল নিনো কী এবং এটি কীভাবে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলে?

পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় এল নিনো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঘটনা, যা নিয়মিত বিরতিতে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে। প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, তখন এই জলবায়ু চক্রটি সক্রিয় হয়। চলতি বছর এই এল নিনোর প্রভাব বিশ্বজুড়ে বেশ প্রকট হয়ে উঠেছে, যা পরিবেশবিদ ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এল নিনো মূলত এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন চক্রের একটি উষ্ণ পর্যায়। এটি যখন সক্রিয় হয়, তখন প্রশান্ত মহাসাগরে সঞ্চিত বিপুল পরিমাণ তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে, কোথাও দেখা দেয় ভয়াবহ খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার সৃষ্টি হয়। ১৯৫০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা এল নিনো ঘটনাগুলোর মধ্যে এবারের পরিস্থিতি অন্যতম শক্তিশালী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো থেকে পানামা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে এই এল নিনোর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে ওই অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা ও গবাদিপশু পালন মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। একইসঙ্গে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রবালপ্রাচীরগুলো বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ও ঘন ঘন ঘটছে। বন উজাড়ের হার নিয়ন্ত্রণে বিশ্বজুড়ে যে প্রচেষ্টা চলছে, এল নিনোর কারণে সৃষ্ট দাবানলের ঝুঁকি সেই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলগুলোতে দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের শেষ মাসগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে রেকর্ড ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

Posted by: Abdul Rohim