মাত্র ৯০ মিনিট ঘুমিয়ে ১৭ লাখ টাকা পুরস্কার জিতলেন জাপানি তরুণী!
একটি প্রতিযোগিতায় জিততে হলে সাধারণত দৌড়াতে হয়, খেলতে হয় কিংবা কঠিন কোনো দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হয়। কিন্তু জাপানে এমন এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিজয়ী হতে হলে প্রতিযোগীদের কাজ ছিল ঘুমানো। আর সেই ঘুমিয়েই বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ লাখ টাকার সমপরিমাণ পুরস্কার জিতেছেন ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী। ২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী এই ঘুমের প্রতিযোগিতা। ‘ম্যাট রেস’ (Matt Race) নামের প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে ম্যাট্রেস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোয়ালা স্লিপ জাপান। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কে সবচেয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে পারেন এবং কার ঘুম সবচেয়ে গভীর ও স্থিতিশীল হয়, সেটিই ছিল মূল পরীক্ষার বিষয়। ঘুমের মধ্যেই চলেছে প্রতিযোগিতা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের আরামদায়ক ম্যাট্রেসে শুয়ে নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া হয়। প্রত্যেকের মাথায় বিশেষ ধরনের ঘুম পর্যবেক্ষণকারী যন্ত্র লাগানো হয়েছিল। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যকলাপসহ ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এখানে শুধু কতক্ষণ ঘুমানো হলো, সেটি বিবেচনা করা হয়নি। বরং কত দ্রুত ঘুমিয়ে পড়লেন, ঘুম কতটা গভীর হলো এবং পুরো সময় ঘুমের স্থিতিশীলতা কেমন ছিল—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয় একটি বিশেষ স্কোর। সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতাটিকে আরও কঠিন করে তুলতে আয়োজকেরা মাঝেমধ্যে ঘুমের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটান। কখনো দরজার ঘণ্টা বাজানো হয়েছে, কখনো ডেলিভারি কর্মীর কণ্ঠ শোনানো হয়েছে, আবার কখনো আলো ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এসব পরিস্থিতিতেও যারা ভালোভাবে ঘুম ধরে রাখতে পেরেছেন, তাঁরা এগিয়ে ছিলেন। ৭০০ জনে একজনেরও কম সুযোগ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন প্রায় ৪৭ হাজার ৫০০ জন। সেখান থেকে বাছাই করে প্রায় ৬৫ জনকে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে সুযোগ পাওয়ার প্রতিযোগিতাও ছিল বেশ কঠিন। প্রতিযোগিতার বিজয়ী হন টোকিওর মুসাশিমুরায়ামা এলাকার ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী। তিনি ‘সুইমি’ (Suimii) ছদ্মনামে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। বিজয়ী হিসেবে তিনি পান ২২ লাখ ২০ হাজার জাপানি ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৭ লাখ টাকার সমপরিমাণ। পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নিজের থাকার জন্য আলাদা বাসা নেওয়ার খরচ মেটাতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নিজের পছন্দের একটি সুন্দর বিছানাও কিনতে চান। কেন এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন? প্রতিযোগিতাটির পেছনে শুধু বিনোদনের উদ্দেশ্য ছিল না। জাপানে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যাতায়াতের চাপ এবং ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD)-এর ঘুমসংক্রান্ত তথ্যও দেশটির মানুষের তুলনামূলক কম ঘুমের বিষয়টি সামনে এনেছে। আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল ব্যতিক্রমী এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ঘুমের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। সাধারণত ঘুমকে ব্যক্তিগত বিশ্রামের বিষয় হিসেবে দেখা হলেও জাপানের এই আয়োজন দেখিয়েছে, ঘুমের গুণগত মান নিয়েও মানুষের আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব। তবে প্রতিযোগিতায় ভালো স্কোর অর্জন করা আর প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যকর ঘুম নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এভাবেই মাত্র ৯০ মিনিটের ঘুমের প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যেখানে অন্যরা ঘুমিয়ে সময় কাটান, সেখানে ঘুমিয়েই লাখ লাখ টাকার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন জাপানের এক তরুণী।


